-: ব্রহ্মকবচম্ - BRAHMA KAVACHAM :-
ঈশ্বর উবাচ
--------------------০--------------------
কবচং শৃণু চার্ব্বঙ্গি জগন্মঙ্গলনামকম্।।
পঠনাদ্ধারণাদস্য ব্রহ্মজ্ঞো জায়তে ধ্রুবম্।
ওঁ পরমাত্মা শিরঃ পাতু হৃদয়ং পরমেশ্বরী।।
কণ্ঠং পাতু জগৎপাতা বদনং সর্ব্বদৃক্ বিভুঃ।
করৌ মে পাতু বিশ্বাত্মা পাদৌ রক্ষতু চিন্ময়ঃ।।
সর্ব্বাঙ্গং সর্ব্বদা পাতু পরং ব্রহ্ম সনাতনম্।
শ্রীজগন্মঙ্গলস্যাস্য কবচস্য সদাশিবঃ।।
ঋষিশ্ছন্দোহনুষ্টুবিতি পরমব্রহ্ম দেবতা।
চতুর্ব্বর্গফলাবাপ্ত্যৈ বিনিয়োগঃ প্রকীর্ত্তিতঃ।।
যঃ পঠেদ্ ব্রহ্মকবচং ঋষিন্যাস-পুরঃসরম্।
স ব্রহ্মজ্ঞানমাসাদ্য সাক্ষাদ্ব্রহ্মময়ো ভবেৎ।।
ভূর্জ্জে বিলিখ্য গুটিকাং স্বর্ণস্থাং ধারয়েদ্ যদি।
কন্ঠে বা দক্ষিণে বাহৌ সর্ব্বসিদ্ধীশ্বরো ভবেৎ।।
ইত্যেতৎ পরমব্রহ্মকবচং তে প্রকাশিতম্।
দদ্যাৎ প্রিয়ায় শিষ্যায় গুরভক্তায় ধীমতে।।
ইতি ব্রহ্মকবচম্ সমাপ্তম্
--------------------০--------------------
শ্লোক ও অর্থ ঃ-
কবচং শৃণু চার্ব্বঙ্গি জগন্মঙ্গলনামকম্।
হে চার্ব্বঙ্গি! “জগন্মঙ্গল” নামক এই কবচ শুনো।
পঠনাদ্ধারণাদস্য ব্রহ্মজ্ঞো জায়তে ধ্রুবম্।
এর পাঠ ও ধারণের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে ব্রহ্মজ্ঞান (আত্মজ্ঞান) লাভ হয়।
ওঁ পরমাত্মা শিরঃ পাতু হৃদয়ং পরমেশ্বরী।
ওঁ - পরমাত্মা আমার মস্তক রক্ষা করুন, এবং পরমেশ্বরী আমার হৃদয় রক্ষা করুন।
কণ্ঠং পাতু জগৎপাতা বদনং সর্বদৃক্ বিভুঃ।
জগৎপালক (বিশ্বের রক্ষাকর্তা) আমার গলা রক্ষা করুন,
সবকিছু দেখেন যিনি — সেই বিভু (ঈশ্বর) আমার মুখ রক্ষা করুন।
করৌ মে পাতু বিশ্বাত্মা পাদৌ রক্ষতু চিন্ময়ঃ।
বিশ্বাত্মা (সার্বজনীন আত্মা) আমার দুই হাত রক্ষা করুন,
চিন্ময় (চৈতন্যস্বরূপ ঈশ্বর) আমার পদযুগল রক্ষা করুন।
সর্বাঙ্গং সর্বদা পাতু পরং ব্রহ্ম সনাতনম্।
চিরন্তন পরম ব্রহ্ম আমার সমগ্র দেহ সবসময় রক্ষা করুন।
শ্রীজগন্মঙ্গলস্যাস্য কবচস্য সদাশিবঃ।
এই “জগন্মঙ্গল কবচ”-এর ঋষি বা প্রণেতা হলেন “সদাশিব”।
ঋষিশ্ছন্দোহনুষ্টুবিতি পরমব্রহ্ম দেবতা।
এর ছন্দ হল ‘অনুস্টুপ’, দেবতা হলেন ‘পরমব্রহ্ম’।
চতুর্ব্বর্গফলাবাপ্ত্যৈ বিনিয়োগঃ প্রকীর্ত্তিতঃ।
এই কবচ চতুর্বর্গ (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) লাভের জন্য ব্যবহৃত হয়।
যঃ পঠেদ্ ব্রহ্মকবচং ঋষিন্যাস-পুরঃসরম্।
যে ব্যক্তি এই ব্রহ্মকবচটি পাঠ করে, ঋষিন্যাস ইত্যাদি বিধি মানে,
স ব্রহ্মজ্ঞানমাসাদ্য সাক্ষাদ্ ব্রহ্মময়ো ভবেৎ।
সে ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করে এবং নিজেই ব্রহ্মময় হয়ে যায়।
ভূর্জ্জে বিলিখ্য গুটিকাং স্বর্ণস্থাং ধারয়েদ্ যদি।
যদি এটি ভূর্জপত্রে লিখে সোনার গুটিকায় রেখে,
কন্ঠে বা দক্ষিণে বাহৌ সর্বসিদ্ধীশ্বরো ভবেৎ।
গলায় বা দক্ষিণ বাহুতে ধারণ করে, তবে সে সর্বসিদ্ধির অধিপতি হয়ে ওঠে।
ইত্যেতৎ পরমব্রহ্মকবচং তে প্রকাশিতম্।
এই ছিল তোমার জন্য প্রকাশিত পরমব্রহ্ম কবচ।
দদ্যাৎ প্রিয়ায় শিষ্যায় গুরুভক্তায় ধীমতে।
এটি প্রিয় শিষ্য, গুরুভক্ত ও জ্ঞানী ব্যক্তিকেই দেওয়া উচিত।
সারমর্ম ঃ-
এই কবচটি আত্মিক রক্ষা ও শুদ্ধির প্রতীক,পরম ব্রহ্মজ্ঞানের উপায়,যিনি ধারন করেন, তিনি "সর্বসিদ্ধি" (সব সফলতা ও আত্মজ্ঞান) অর্জন করতে পারেন,এটি গুরু থেকে শিষ্যে প্রদানযোগ্য — কিন্তু যথার্থভাবে যোগ্য শিষ্য হলে তবেই।

0 মন্তব্যসমূহ