Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

সঙ্কটনাশন-গণেশস্তোত্রম্ - Sankata Nashana Ganesha Stotram

 


সঙ্কটনাশন-গণেশস্তোত্রম্

--------------------০-------------------- 

সঙ্কটনাশন-গণেশস্তোত্রম্

নারদ উবাচ

প্রণম্য শিরসা দেবং গৌরীপুত্রং বিনায়কম্।
ভক্ত্যাবাসং স্মরেন্নিত্যমায়ুষ্কামার্থসিদ্ধয়ে।।
প্রথমং বক্রতুগুঞ্চ একদন্তং দ্বিতীয়কম্।
তৃতীয়ং কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষং গজবক্ত্রং চতুর্থকম্।।
লম্বোদর পঞ্চমঞ্চ ষষ্ঠং বিকটমেব চ।
সপ্তমং বিঘ্নরাজঞ্চ ধূম্রবর্ণং তথাষ্টকম্।।
নবমং ভালচন্দ্রঞ্চ দশমং তু বিনায়কম্।
একাদশং গণপতিং দ্বাদশন্তু গজাননম্।।
দ্বাদশৈতানি নামানি ত্রিসন্ধ্যং যঃ পঠেন্নরঃ।
নাস্তি বিঘ্নভয়ং তস্য সর্ব্বসিদ্ধং লভেদ্‌ধ্রুবম্।।
বিদ্যার্থী লভতে বিদ্যাং ধনার্থী লভতে ধনম্।
পুত্রার্থী লভতে পুত্রান্ মোক্ষার্থী লভতে গতিম্।।
জপন্ গণপতিস্তোত্রং ষড়ভিমাসৈঃ ফলং লভেৎ।
সংবৎসরেণ সিদ্ধিঞ্চ লভতে নাত্র সংশয়ঃ।।
অষ্টাভ্যো ব্রাহ্মণেভ্যশ্চ লিখিত্বা যঃ সমর্পয়েৎ।
তস্য বিদ্যা ভবেৎ সদ্যো গণেশস্য প্রসাদতঃ।।


ইতি শ্রীনারদপুরাণে সঙ্কটনাশনং নাম গণেশস্তোত্রং সম্পূর্ণম্।

--------------------০--------------------

“সঙ্কটনাশন গণেশ স্তোত্র” (Sankata Nashana Ganesha Stotram)। এটি নারদ পুরাণ থেকে সংগৃহীত, যেখানে দেবর্ষি নারদ মহর্ষি গণপতির নামসমূহ জপ করার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। নিচে স্তোত্রটির সারাংশ এবং ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

স্তোত্রার্থ (অর্থ ও ব্যাখ্যা) ঃ- 

নারদ উবাচ
প্রণম্য শিরসা দেবং গৌরীপুত্রং বিনায়কম্।
ভক্ত্যাবাসং স্মরেন্নিত্যমায়ুষ্কামার্থসিদ্ধয়ে।।

নারদ বলেন – যিনি গৌরীপুত্র, ভগবান গণেশ, তাঁকে মাথা নত করে প্রণাম করতে হবে। যে ভক্ত প্রতিদিন ভক্তিভরে তাঁকে স্মরণ করে, সে দীর্ঘায়ু হয় এবং সব কাম্যসিদ্ধি লাভ করে।

প্রথমং বক্রতুগুঞ্চ একদন্তং দ্বিতীয়কম্।

তৃতীয়ং কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষং গজবক্ত্রং চতুর্থকম্।।

প্রথম নাম – বক্রতুণ্ড (বাঁকা দন্তধারী),
দ্বিতীয় নাম – একদন্ত (এক দাঁতবিশিষ্ট),
তৃতীয় নাম – কৃষ্ণপিঙ্গাক্ষ (গাঢ় বর্ণ ও লালচে চোখওয়ালা),
চতুর্থ নাম – গজবক্ত্র (হাতীমুখধারী)।

লম্বোদর পঞ্চমঞ্চ ষষ্ঠং বিকটমেব চ।
সপ্তমং বিঘ্নরাজঞ্চ ধূম্রবর্ণং তথাষ্টকম্।।

পঞ্চম নাম – লম্বোদর (বড়ো পেটওয়ালা),
ষষ্ঠ নাম – বিকট (অসীম শক্তিধর),
সপ্তম নাম – বিঘ্নরাজ (বাধাদাতা ও নাশকারী),
অষ্টম নাম – ধূম্রবর্ণ (ধূসর আভাযুক্ত)।

নবমং ভালচন্দ্রঞ্চ দশমং তু বিনায়কম্।
একাদশং গণপতিং দ্বাদশন্তু গজাননম্।।

নবম নাম – ভালচন্দ্র (মাথায় চন্দ্রশোভিত),
দশম নাম – বিনায়ক (গণনেতা),
একাদশ নাম – গণপতি (গণদের অধিপতি),
দ্বাদশ নাম – গজানন (হাতীমুখী)।

দ্বাদশৈতানি নামানি ত্রিসন্ধ্যং যঃ পঠেন্নরঃ।
নাস্তি বিঘ্নভয়ং তস্য সর্ব্বসিদ্ধং লভেদ্ধ্রুবম্।।

যে ভক্ত প্রতিদিন তিনবেলা এই দ্বাদশ নাম পাঠ করে, তার জীবনে কোনো বিঘ্ন আসে না। সে সর্বপ্রকার সিদ্ধি লাভ করে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

বিদ্যার্থী লভতে বিদ্যাং ধনার্থী লভতে ধনম্।
পুত্রার্থী লভতে পুত্রান্ মোক্ষার্থী লভতে গতিম্।।

যে বিদ্যা চায়, সে বিদ্যা লাভ করে।
যে ধন চায়, সে ধন পায়।
যে সন্তান চায়, সে সন্তান পায়।
যে মোক্ষ কামনা করে, সে মোক্ষ লাভ করে।

জপন্ গণপতিস্তোত্রং ষড়ভিমাসৈঃ ফলং লভেৎ।
সংবৎসরেণ সিদ্ধিঞ্চ লভতে নাত্র সংশয়ঃ।।

যে ব্যক্তি ছয় মাস ধরে এই স্তোত্র জপ করে, সে কাম্য ফল লাভ করে। এক বছরের মধ্যে সে পূর্ণ সিদ্ধি লাভ করে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

অষ্টাভ্যো ব্রাহ্মণেভ্যশ্চ লিখিত্বা যঃ সমর্পয়েৎ।
তস্য বিদ্যা ভবেৎ সদ্যো গণেশস্য প্রসাদতঃ।।

যে ব্যক্তি এই স্তোত্র লিখে আটজন ব্রাহ্মণকে দান করে, সে তৎক্ষণাৎ বিদ্যা লাভ করে। এটি গণেশের প্রসাদে সম্ভব।

সারমর্ম ঃ- 

এই স্তোত্রে ভগবান গণেশের বারোটি পবিত্র নাম বর্ণিত হয়েছে। নিয়মিত ভক্তিভরে নামগুলি জপ করলে জীবনের সব বাধা-বিঘ্ন দূর হয়। বিদ্যা, ধন, সন্তান, আয়ু, সুখ, সিদ্ধি ও মোক্ষ প্রাপ্তি হয়। ছয় মাস জপে ফল, এক বছরের জপে সিদ্ধিলাভ নিশ্চিত। ব্রাহ্মণদের মধ্যে লিখে দান করলে জ্ঞান ও বিদ্যার বর লাভ হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code