Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

Shankh Bhasma Benefits : পেটের সব সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তির সমাধান


শঙ্খ ভস্ম (Shankh Bhasma) হল একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিকার যা প্রধানত হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি এবং পেট ব্যথার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি শঙ্খের খোলস থেকে তৈরি হয় এবং এতে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে। 

স্বাস্থ্য উপকারিতা (Health Benefits)

অ্যাসিডিটি এবং বুকজ্বালা: এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টাসিড হিসাবে কাজ করে এবং পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে, ফলে বুকজ্বালা এবং অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি মেলে।

হজমের উন্নতি: শঙ্খ ভস্ম হজম ক্ষমতা বাড়াতে, ক্ষুধা উন্নত করতে এবং বদহজমের (indigestion) মতো সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

পেট ফাঁপা এবং গ্যাস: এর বায়োঅ্যাকটিভ উপাদানগুলি পেট ফাঁপা, অন্ত্রের গ্যাস এবং পেটের ভার কমানোতে সাহায্য করে।

পেটে ব্যথা: এটি পেটের পেশীর খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে, যা পেটে ব্যথার উপশম করে।

ডায়রিয়া: এর শোষণকারী (Grahi) গুণের কারণে এটি ডায়রিয়া এবং ম্যালঅ্যাবসর্পশন সিন্ড্রোমের চিকিৎসায় কার্যকর।

ত্বকের স্বাস্থ্য: শঙ্খের গুঁড়ো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, বলিরেখা, ব্রণ এবং চোখের নিচের কালো

ত্বকের স্বাস্থ্য: শঙ্খের গুঁড়ো ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, বলিরেখা, ব্রণ এবং চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যালসিয়ামের উৎস: এতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে। 

সতর্কতা (Precautions)

চিকিৎসকের পরামর্শ: শঙ্খ ভস্ম ব্যবহারের আগে একজন অভিজ্ঞ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

ডোজ: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ১২৫ মি.গ্রা. থেকে ২৫০ মি.গ্রা. শঙ্খ ভস্ম দিনে দুইবার মধু বা জলের সাথে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দিনে ৫০০ মি.গ্রা.-এর বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থা এবং স্তন্যদান: গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য শঙ্খ ভস্ম এড়িয়ে চলাই ভালো, যদি না স্বাস্থ্য পেশাদার দ্বারা সুপারিশ করা হয়। 

---------------

শঙ্খ ভস্মের উপকারিতা (Śaṅkha Bhasma Benefits)

শঙ্খ ভস্ম আয়ুর্বেদে বহুল ব্যবহৃত একটি খনিজ ঔষধ, যা মূলত শঙ্খ (Conch shell) শুদ্ধিকরণ ও ভস্মীকরণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। এটি প্রধানত পাচনতন্ত্র ও অম্লজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়।

প্রধান উপকারিতা

  1. অম্লতা ও গ্যাস্ট্রিক কমায়
    – অম্বল, বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর ও এসিডিটি উপশম করে।

  2. হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
    – অজীর্ণ, পেট ফাঁপা ও বদহজমে উপকারী।

  3. আলসার ও পাকস্থলীর ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক
    – গ্যাস্ট্রিক আলসার ও ডুওডেনাল আলসারে উপকার দেয়।

  4. ডায়রিয়া ও আমাশয়ে উপকারী
    – অতিরিক্ত অম্ল ও অন্ত্রের উত্তেজনা কমায়।

  5. ক্যালসিয়ামের প্রাকৃতিক উৎস
    – দাঁত ও হাড় মজবুত করতে সহায়তা করে (আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিতে)।

  6. বমি ও বমিভাব কমায়
    – বিশেষত অম্লজনিত বমিতে কার্যকর।

  7. পিত্তদোষ প্রশমন করে
    – শরীরের অতিরিক্ত উষ্ণতা ও জ্বালাভাব কমায়।

সাধারণ সেবন মাত্রা

  • ১২৫ মি.গ্রা. – ২৫০ মি.গ্রা.

  • মধু, ঘি, দুধ অথবা জল সহ সেবন করা হয় (রোগ অনুযায়ী)

সতর্কতা

  • অবশ্যই শুদ্ধ ও প্রামাণিক শঙ্খ ভস্ম ব্যবহার করতে হবে।

  • দীর্ঘমেয়াদে বা অন্য ওষুধের সাথে সেবনের আগে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যক

  • শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

নিচে শঙ্খ ভস্মের শাস্ত্রোক্ত সূত্র ও গ্রন্থসূত্র সংক্ষেপে কিন্তু প্রামাণ্যভাবে দিচ্ছি—আয়ুর্বেদ ও রসশাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ অনুযায়ী।

---------------

শঙ্খ ভস্ম : শাস্ত্রোক্ত সূত্র

রসতরঙ্গিণী

তরঙ্গ ১২–১৩ (শঙ্খাদি ভস্ম প্রकरण)

“শঙ্খঃ শীতলঃ কষায়শ্চ
দীপনো গ্রাহি পিত্তজিত্।
অম্লপিত্তহরো হন্তি
গুল্মশূলপ্রদাহকৃত্॥”

অর্থ:
শঙ্খ শীতল, কষায় স্বভাবযুক্ত, অগ্নিদীপক ও গ্রাহী।
এটি পিত্তনাশক, অম্লপিত্ত, গুল্ম, শূল ও দাহ নাশ করে।

---------------

ভাবপ্রকাশ নিঘণ্টু

ধাতু-বর্গ / উপধাতু-বর্গ

“শঙ্খো হি কফপিত্তঘ্নো
দীপনঃ পাচনঃ স্মৃতঃ।
অজীর্ণাম্লপিত্তঘ্নঃ
শূলগুল্মনিবারণঃ॥”

অর্থ:
শঙ্খ কফ-পিত্ত নাশক, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,
অজীর্ণ, অম্লপিত্ত, শূল ও গুল্ম নিবারণ করে।

---------------

রসরাজ সুন্দর

“শঙ্খভস্ম প্রদীপ্যাগ্নিং
গ্রাহি শূলপ্রদাহহৃত্।
অম্লপিত্তক্ষয়করং
পাকাশয়বিকারজিত্॥”

অর্থ:
শঙ্খ ভস্ম জঠরাগ্নি দীপ্ত করে, শূল ও প্রদাহ নাশ করে,
অম্লপিত্ত ও পাকস্থলীর রোগ বিনাশ করে।

---------------

আয়ুর্বেদ সারসংগ্রহ

“শঙ্খভস্ম শুভং প্রোক্তং
গ্যাস্ট্রিকাম্লনিবারণম্।
অজীর্ণে শূলরোগে চ
বিশেষাৎ পরিকীর্তিতম্॥”

অর্থ:
শঙ্খ ভস্ম অম্লতা ও গ্যাস্ট্রিকে বিশেষ উপকারী,
অজীর্ণ ও শূলরোগে প্রসিদ্ধ।

---------------

তান্ত্রিক ও লোকাচারিক দৃষ্টিতে

তন্ত্র ও লোকচিকিৎসায় শঙ্খকে চন্দ্রতত্ত্বশীতল শক্তির বাহক বলা হয়েছে।
শঙ্খ ভস্ম—

  • দাহ

  • অন্তর্দাহ

  • পিত্তবিকার

  • অগ্নিদাহজনিত রোগ

প্রশমনে ব্যবহৃত হয়।

---------------

শাস্ত্রোক্ত মাত্রা

১২৫–২৫০ মি.গ্রা.
অনুপান: দুধ / ঘি / মধু (রোগানুসারে)

সাধারণত ১কাপ উষ্ণ গরম জলে ১টেবিল চামচ শঙ্খ ভস্ম গুলে পান করতে হয় সকাল দুপুর রাত্রে অথবা সকালে রাত্রে অথবা দুপুরে রাত্রে খাবার খাওয়ার আধ ঘন্টা আগে অথবা খাবার খাওয়ার আধ ঘন্টা পরে। তবে এই ঔষধ দিনে কতবার সেবন করা উচিৎ তার মাত্রা নির্ভর করে রোগ অনুসারে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code