গোমতী
চক্র হলো গুজরাতের দ্বারকার গোমতী নদীতে প্রাপ্ত এক ধরণের বিরল,
প্রাকৃতিক ক্যালসিয়াম-ভিত্তিক শামুকের অপারকুলাম (shell stone)। একে দেবী
লক্ষ্মী ও ভগবান বিষ্ণুর
সুদর্শন চক্রের প্রতীক মানা হয়, যা সৌভাগ্য, ধন
বৃদ্ধি, নেতিবাচক শক্তি থেকে সুরক্ষা এবং বাস্তু দোষ দূর করতে ব্যবহৃত হয়।এটি দেখতে একপাশে মসৃণ ও অন্যপাশে সর্পিল
বা চাকার মতো।
গোমতী
চক্রের মূল ব্যবহার ও উপকারিতা:
অর্থ
ও সমৃদ্ধি: সম্পদ ও আর্থিক স্থায়িত্বের
জন্য ১১টি গোমতী চক্র লাল কাপড়ে মুড়িয়ে লকার বা ক্যাশ বাক্সে
রাখা হয়।
বাস্তু
ও সুরক্ষা: পরিবার ও ঘরকে অশুভ
নজর বা নেতিবাচক শক্তি
থেকে রক্ষা করতে এটি প্রধান দরজার কাছে রাখা হয় বা পোঁতা হয়।
ক্যারিয়ার
ও ব্যবসায় সাফল্য: চাকরিতে পদোন্নতি বা ব্যবসায়িক বাধা
দূর করতে তিনটি অভিমন্ত্রিত গোমতী চক্র পকেটে রাখা যেতে পারে।
জ্যোতিষ
প্রতিকার: কোষ্ঠীতে 'নাগ দোষ' বা 'সর্প দোষ' দূর করতে এবং রাহু-কেতুর নেতিবাচক প্রভাব কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়।
স্বাস্থ্য
ও শান্তি: অসুস্থ ব্যক্তির মাথার চারপাশে ২১ বার ঘুরিয়ে
বিছানার নিচে রাখলে দ্রুত সুস্থতায় সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়।
ব্যবহারের
নিয়ম:
সাধারণত
শুক্রবার বা কোনো শুভক্ষণে
(যেমন দীপাবলি, অক্ষয় তৃতীয়া) গোমতী চক্র পরিষ্কার করে, পূজার্চনা করে, চন্দনের তিলক লাগিয়ে ব্যবহার করা হয়।
আসল
গোমতী চক্র চেনার উপায়:
আসল গোমতী চক্র ঘন এবং কিছুটা ভারী হয়। এর এক পিঠে স্পষ্ট সর্পিল (spiral) নকশা থাকে এবং অন্য পিঠটি কিছুটা উঁচু ও মসৃণ হয়। এটি সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে চকচকে হয় না, বরং প্রাকৃতিক অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ