Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

অজানা ব্যাধিতে ভুগছেন জেনে রাখুন আসল কারন

তন্ত্র ও আয়ুর্বেদের মতে বাত (বায়ু), পিত্ত কফএই তিনটি দোষ (ত্রিদোষ) শরীরের প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি। যখন এরা স্বাভাবিক ভারসাম্যে থাকে, তখন শরীর সুস্থ থাকে। আর যখন এদের মধ্যে এক বা একাধিক দোষের ভারসাম্য নষ্ট হয়, তখন বিভিন্ন শারীরিক মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে "সমস্ত রোগ শুধুমাত্র ত্রিদোষের ভারসাম্যহীনতার কারণে হয়"—এটি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে প্রমাণিত নয়। অনেক রোগের কারণ হতে পারে:

  1. ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য সংক্রমণ
  2. জিনগত (বংশগত) কারণ
  3. পুষ্টির অভাব
  4. পরিবেশগত দূষণ
  5. আঘাত বা দুর্ঘটনা
  6. হরমোনজনিত সমস্যা
  7. জীবনযাত্রা মানসিক চাপ

আয়ুর্বেদে সাধারণভাবে বলা হয়:

বাত (বায়ু) বৃদ্ধিব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, উদ্বেগ, অনিদ্রা।

পিত্ত বৃদ্ধিঅম্বল, অতিরিক্ত গরম লাগা, রাগ, ত্বকের জ্বালা।

কফ বৃদ্ধিসর্দি, কফ জমা, অলসতা, ওজন বৃদ্ধি।

বাত, পিত্ত কফের ভারসাম্য নষ্ট হলে কোন কোন লক্ষণ দেখা যায় তার একটি বিস্তারিত তালিকা নিচে দেওয়া হল:

তন্ত্র এবং আয়ুর্বেদে বাত (Vata), পিত্ত (Pitta) কফ (Kapha)-কে শরীরের তিনটি মৌলিক নিয়ন্ত্রক শক্তি বা ত্রিদোষ বলা হয়। এরা শরীরের বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করে।

🌪 বাত (বায়ু) – গতি যোগাযোগের শক্তি

মৌলিক কাজ:

  1. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ
  2. স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকলাপ
  3. শরীরের সব ধরনের নড়াচড়া
  4. চিন্তা, অনুভূতি মস্তিষ্কের সংকেত আদান-প্রদান
  5. মল, মূত্র ঘাম নির্গমন
  6. রক্ত পুষ্টি উপাদানের পরিবহন ও রক্ত সঞ্চালন

সংক্ষেপে: বাত হলো শরীরের "চালিকা শক্তি"

🔥 পিত্তরূপান্তর বিপাকের শক্তি

মৌলিক কাজ:

  1. খাদ্য হজম
  2. পুষ্টি শোষণ বিপাকক্রিয়া
  3. শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ
  4. বুদ্ধি, বিচারবোধ মনোযোগ
  5. রক্তের গঠন বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া
  6. দৃষ্টিশক্তির সহায়তা

সংক্ষেপে: পিত্ত হলো শরীরের "রূপান্তরকারী শক্তি"

💧 কফগঠন স্থিতিশীলতার শক্তি

মৌলিক কাজ:

  1. শরীরের গঠন শক্তি প্রদান
  2. হাড়, পেশী টিস্যুর পুষ্টি
  3. জয়েন্টে তৈলাক্ততা সুরক্ষা
  4. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সহায়তা
  5. শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখা
  6. মানসিক স্থিরতা ধৈর্য

সংক্ষেপে: কফ হলো শরীরের "গঠন সংরক্ষণকারী শক্তি"

সহজ উদাহরণ

একটি গাড়ির সঙ্গে তুলনা করলে:

বাত = গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

পিত্ত = ইঞ্জিনের জ্বালানি পোড়ানো শক্তি উৎপাদন।

কফ = গাড়ির বডি, কাঠামো লুব্রিকেশন।

তন্ত্র ও আয়ুর্বেদের মতে, এই তিনটি শক্তি সুষম থাকলে শরীর সুস্থ থাকে; ভারসাম্য নষ্ট হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তন্ত্র ও আয়ুর্বেদের বাত, পিত্ত, কফ এবং যোগশাস্ত্রের চক্র—দুটি ভিন্ন ধারণা, তবে অনেক আধ্যাত্মিক ধারায় এদের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়।

সাধারণভাবে নিম্নরূপ সম্পর্ক বলা হয়:

🌱 মূলাধার চক্র (Muladhara)

  1. স্থিতি, নিরাপত্তা, শারীরিক ভিত্তি
  2. কফের সঙ্গে কিছুটা সম্পর্কিত বলে ধরা হয়
  3. ভারসাম্যহীন হলে: ভয়, অনিরাপত্তা, দুর্বলতা

🌊 স্বাধিষ্ঠান চক্র (Svadhisthana)

  1. আবেগ, সৃজনশীলতা, প্রজননশক্তি
  2. জলতত্ত্বের কারণে কফের প্রভাব দেখা যায়
  3. ভারসাম্যহীন হলে: আবেগগত অস্থিরতা, আসক্তি

🔥 মণিপুর চক্র (Manipura)

  1. অগ্নি, ইচ্ছাশক্তি, হজমশক্তি
  2. পিত্তের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত
  3. ভারসাম্যহীন হলে: অম্বল, রাগ, হজমের সমস্যা, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি

💚 অনাহত চক্র (Anahata)

  1. প্রেম, সহানুভূতি, হৃদয়
  2. বাত ও কফ উভয়ের প্রভাবের কথা বলা হয়
  3. ভারসাম্যহীন হলে: মানসিক কষ্ট, আবেগগত সমস্যা

🔵 বিশুদ্ধ চক্র (Vishuddha)

  1. যোগাযোগ ও প্রকাশ
  2. বাতের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধরা হয়
  3. ভারসাম্যহীন হলে: নিজেকে প্রকাশে সমস্যা

👁️ আজ্ঞা চক্র (Ajna)

  1. অন্তর্দৃষ্টি, মনোযোগ
  2. সূক্ষ্মভাবে বাত ও পিত্তের সঙ্গে যুক্ত
  3. ভারসাম্যহীন হলে: বিভ্রান্তি, মনোযোগের অভাব

🕉️ সহস্রার চক্র (Sahasrara)

  1. আধ্যাত্মিক চেতনা
  2. ত্রিদোষের ঊর্ধ্বে বলে অনেক শাস্ত্রে বর্ণিত

তবে এটি আধ্যাত্মিক/যোগিক ব্যাখ্যা; চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব উপসর্গের কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন। চিকিৎসা বিজ্ঞান হল ঈশ্বর প্রদত্ত মনুষ্য বিজ্ঞান এবং ঈশ্বর বিজ্ঞান হল স্বয়ং স্রষ্টার স্বতন্ত্র বিজ্ঞান তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে যা সম্ভব নয় তা ঈশ্বর বিজ্ঞান দ্বারা সম্ভব।

বিজ্ঞান আগে অস্বীকার করত ঈশ্বর নেই কিন্তু এখন বিজ্ঞান বলছে ঈশ্বর আছে। স্রষ্টার সৃষ্টির কাছে বিজ্ঞান কে ও মাথা নত করতে হয়। কারন বিজ্ঞান গবেষণার মাধ্যমে যা আবিষ্কার করেতে পেরেছে তারা তাই বিশ্বাস করে এবং যা তারা এখনো পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেনি তা তারা বিশ্বাস করে না। বিশ্বাস বা অবিশ্বাস দ্বারা কোন কিছু সঠিক বা ভুল প্রমানিত হয় না। কারন আপনি ঈশ্বর বিশ্বাস করুন বা অবিশ্বাস করুন এর দ্বারা এটা প্রমানিত হয় না - যে ঈশ্বর আছে বা নেই।

বিজ্ঞান যা কিছু সৃষ্টি করেছে সেই শক্তি আগে থেকেই এই প্রকৃতির মধ্যেই বিদ্যমান আছে, ছিল এবং থাকবে। তাই বিজ্ঞান কোন কিছু স্বীকার করুক বা অস্বীকার করুক তাতে এটা প্রমানিত হয় না যে ঐশ্বরিক চিকিৎসাবিজ্ঞান দ্বারা মানুষের কল্যান সম্ভব নয়।

স্রষ্টার সৃষ্টির সম্পূর্ণ নাগাল এখনো পর্যন্ত কোন বিজ্ঞান আবিষ্কার করেতে সক্ষম হয়ে ওঠেনি যা আমাদের প্রাচীন মুনি ঋষিরা হাজার হাজার বা  লক্ষ লক্ষ বছর আগে আবিষ্কার করে ছিলেন।

তখন ছিল না কোন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, এই ঈশ্বর বিজ্ঞান কে ব্যবহার করে তারা মানুষের সমস্ত সম্যসার প্রতিকার করতেন এবং মানুষ সম্পূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পেতেন। তাই ঈশ্বর বিজ্ঞান কে সঠিকভাবে ব্যবহার করে যে কোন সম্যসার প্রতিকার করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code