
দীক্ষা
মানে কি - মা কালীর দীক্ষা,
কৃষ্ণের দীক্ষা, শিবের দীক্ষা নাকি ভিন্ন কোন দেব - দেবীর দীক্ষা। আসলে বিষয় টা ঠিক তা
নয়। প্রকৃতপক্ষে দীক্ষা কথার অর্থ হল দক্ষতা অর্জন
করা। নিজের ভেতরে যে ঈশ্বরিক সুপ্ত
চেতনা বিদ্যমান রয়েছে সেই চেতনাকে চৈতন্যে রুপান্তরিত করার জন্য যে যোগ্যতা বা
দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন হয় মূলত তাকেই
দীক্ষা বলা হয়।
যোগ্যতা
অর্জন: 'দীক্ষা' শব্দের সাথে 'দক্ষতা' শব্দের একটি গভীর অভ্যন্তরীণ যোগ রয়েছে। দীক্ষা হলো অন্তরের সুপ্ত আধ্যাত্মিক শক্তিকে জাগ্রত করে নিজের ভেতরের পরম সত্যকে জানার জন্য যে যোগ্যতা বা
দক্ষতা অর্জন করা হয় তাকেই দীক্ষা
বলা হয়। আরেকভাবে আত্মজ্ঞান লাভ করার জন্য
সারসংক্ষেপ:
যে অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া যোগের মাধ্যমে নিজের ভেতরের সেই ঈশ্বরিক চেতনা জাগ্রত হয়ে মূল পরম সত্য শক্তির সাথে মিলন ঘটানোর জন্য যে দক্ষতা অর্জন
করা হয় তাকেই দীক্ষা বলা হয়। ক্রিয়া মানে অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ এবং যোগ মানে মিলন। ক্রিয়া যোগের মাধ্যমে পরম চূড়ান্ত সত্যের সাথে মিলন ঘটানোর যে দক্ষতা তাহাই
দীক্ষা।
আধ্যাত্মিকতা:
বিভিন্ন শাস্ত্রে বর্ণিত আছে এবং আমরা অনেকেই জানি - ঈশ্বর এক বা অভিন্ন।
এই এক বা অভিন্ন
ঈশ্বরিক শক্তিকে পরম সত্য বলা হয়। এই ঈশ্বর বা
পরম সত্য তাকে বলা হয় যা ভৌত
প্রকৃতির উর্ধ্বে এবং অপরিবর্তনীয়। এই পরম বা
চূড়ান্ত সত্যের (Ultimate reality) অনুভূতি লাভের জন্য যে যোগ্যতা বা
দক্ষতা অর্জন করা হয় মূলত তাকেই
দীক্ষা বলা হয়।
দীক্ষা কেন গ্রহন করবেন
দীক্ষা
প্রদানের মাধ্যমে যে ক্রিয়াযোগ সাধনী
দেওয়া হয় এটি মূলত
- শরীর, মন এবং শক্তির
ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত এই ক্রিয়াযোগ সাধনী
অনুশীলন করার মাধ্যমে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা
থেকে উপকার পাওয়া যায়।
মানসিক
ও আবেগীয় সমস্যা:
মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা(Anxiety): স্ট্রেস বা মানসিক চাপ কমাতে এটি অত্যন্ত কার্যকর। গবেষণা অনুযায়ী, এটি মানসিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
বিষণ্ণতা
(Depression): হতাশা ও বিষণ্ণতার উপসর্গ
দূর করতে সাহায্য করে।
আবেগ
নিয়ন্ত্রণ: মেজাজের ওঠানামা কমানো এবং আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখতে এটি সাহায্য করে।
শারীরিক
সমস্যা:
ক্লান্তি ও দুর্বলতা: শরীরে প্রাকৃতিক শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজের উদ্যম বাড়ে।
ঘুমের
সমস্যা: অনিদ্রা (Insomnia) দূর করে ঘুমের গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ: এলার্জি, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেন, ডায়াবেটিস, সাইনাস, বদহজম এবং অত্যন্ত জটিল ক্রনিক ব্যধির মতো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করে।
নারীদের
সমস্যা: অনিয়মিত পিরিয়ড এবং তীব্র মাসিকের ব্যথায় (Menstrual
Disorders) ভালো ফল পাওয়া যায়।
দৈনন্দিন জীবন ও স্বভাবে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে:
স্পষ্টতা
ও মনোযোগ: কাজে মনোযোগ (Focus) ও চিন্তার স্বচ্ছতা
বাড়ায়।
শৃঙ্খলা
ও আসক্তি: খারাপ অভ্যাস বা বদভ্যাস দূর
করতে এবং জীবনে স্বতঃস্ফূর্ত শৃঙ্খলা আনতে সাহায্য করে।
স্মৃতিগত সমস্যা: যাদের স্মৃতিগত সমস্যা রয়েছে বা অতীতের কোনো স্মৃতিগত সমস্যাতে ভুগছেন এই সাধনী অনুশীলনের মাধ্যমে স্মৃতিগত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
তন্ত্র সাধনা: যারা নির্দিষ্ট কোনো দেব-দেবীর বা অপদেবতার সাধনা করতে চান সেক্ষেত্রে দীক্ষা গ্রহন করে নিয়মিত এই ক্রিয়াযোগ সাধনী অনুশীলন করার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে পারবেন। এই যোগ্যতা বা দক্ষতা একবার অর্জন করলে যে কোন সাধনায় খুব সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন।
আনন্দময়
অবস্থা: এই সাধনী অনুশীলনের
মাধ্যমে আপনার ভেতরে শান্ততা ও স্থিরতা তৈরি হয়। এবং এক বিশেষ ধরনের
রসায়ন তৈরি হয় যা আপনাকে
আনন্দময় করে তোলে।
সিদ্ধান্ত
গ্রহন: নিয়মিত এই সাধনী অনুশীলনের
মাধ্যমে ধীরে ধীরে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহন করার ক্ষমতা কমে আসে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করার সক্ষমতা তৈরি হয়।
আত্ম-জ্ঞান লাভ: নিয়মিত এই সাধনী অনুশীলনের মাধ্যমে পরম সত্যের অনুভূতি লাভ হয় অর্থাৎ সৃষ্টির মূল উৎস শক্তির সাথে মিলন ঘটে। যাকে আরেকভাবে - আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন বা কুন্ডলিনী শক্তির জাগরন বলা হয়।
আধ্যাত্মিকতা: বিভিন্ন শাস্ত্রে বর্ণিত আছে এবং আমরা অনেকেই জানি - ঈশ্বর এক বা অভিন্ন। এই এক বা অভিন্ন ঈশ্বরকে পরম সত্য বা ব্রহ্ম বলা হয়। এই পরম সত্য বা ব্রহ্ম তাকে বলা হয় যা ভৌত প্রকৃতির উর্ধ্বে এবং অপরিবর্তনীয়।
একবার
দীক্ষা গ্রহন করলে পুনরায় কি দীক্ষা গ্রহন
করা উচিত:
আমরা
এই বিষয় টি বাস্তবের দৃষ্টিকোণ
থেকে দেখার চেষ্টা করব। ধরুন আপনার কোন একটি শারীরিক ব্যাধি তৈরি হয়েছে এখন আপনি একজন ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু কোন উপকার পাননি। তাহলে আপনি দ্বিতীয় কোন ডাক্তারের কাছে যাবেন কি না।
তো তেমনি একবার দীক্ষা গ্রহন করে আপনি যদি কোন উপকার না পেয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে পুনরায় দীক্ষা গ্রহন করা উচিত। তবে পুনরায় দীক্ষা গ্রহন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার সচেতন বুদ্ধিমুত্তা ব্যবহার করতে হবে। তার কারন আপনি পুনরায় ভুল জায়গা থেকে দীক্ষা গ্রহন করলে শুধু সময় নষ্ট করবেন। তাই নিজের সচেতনতা ব্যবহার করে অবশ্যই একজন সদ্গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা গ্রহন করুন।
কোন ধর্ম বা বর্ণের মানুষ দীক্ষা গ্রহন করতে পারেন:
কোনো বিষয় সম্পর্কে দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ধর্ম বা বর্ণের প্রয়োজন হয় না। কারন এই প্রকৃতিতে সবথেকে বড় ধর্ম হল মানব ধর্ম তাই যদি আপনি একজন মানুষ হয়ে থাকেন অথবা মানব দেহ ধারনকারী একজন সত্তা হয়ে থাকেন সেক্ষত্রে আপনি দীক্ষা গ্রহন করতে পারেন।
দীক্ষা গ্রহন করলে কোন ধররনের খাদ্য গ্রহন করা উচিত:
আমিশ নাকি নিরামিশ কোন খাবার গ্রহন করব। দেখুন এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, আমরা বাঁচার জন্য খাদ্য গ্রহন করি অসুস্থ হয়ে পড়ার জন্য নয়। তাই আপনার শরীরের গঠন অনুযায়ী কোন ধরনের খাবার গ্রহন করবেন এই বিষয় টি যেন আপনি নিজেই ঠিক করেন অন্য কেউ নয়। তাই সম্পূর্ণ মনযোগ এবং সচেতন বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ঠিক করা উচিত কোন খাদ্য গ্রহন করলে আপনি সারাদিন প্রানবন্ত সজীব এবং সক্রিয় থাকবেন। এমন খাদ্য গ্রহন করা উচিত নয় যা আমদের দেহতন্ত্রকে জড়তায় পরিনত করে। তাই আপনার শরীরের গঠন অনুসারে আপনাকে নিজেকেই বেছে নিতে হবে আপনার শরীরের জন্য কোন ধরনের খাদ্য প্রযোজ্য।
দীক্ষা গ্রহন করতে বয়সের সময়সীমা:
এই সাধনী প্রোগ্রামটি মূলত ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। বয়সের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই; যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই এটি করতে পারেন। তবে ১৮ বছরের কম বয়সীদের অংশগ্রহণের জন্য তাদের পিতামাতার সম্মতির প্রয়োজন হয়।
----------------------------------------------
দীক্ষা প্রদানের পারিশ্রমিক মূল্য:
১। ভারতীয় মুদ্রায় পাঁচ হাজার একশত টাকা।
Additional Costs -
বাড়িতে গিয়ে দীক্ষা প্রদান করতে হলে:
১। ভারতীয় মুদ্রায় তিন হাজার একশত টাকা।
২। যাতায়াত খরচ + থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা।
বাড়িতে গিয়ে দীক্ষা প্রদান করতে হলে এই অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে।
-----------------------
দীক্ষা গ্রহন করলে যে সমস্ত সামগ্রী প্রদান করা হবে:
১। - পাঁচমুখী রুদ্রাক্ষ - নেপালী অথবা ইন্দোনেশিয়া।
২। - সাধনী যন্ত্র বা প্রতিলিপি।
Combo Pack -
৩। - শিব-ভৈরব তাবিজ
৪। - গাত্র রক্ষা তাবিজ।
৫। - আয় উন্নতির তাবিজ।
-----------------------
দীক্ষা গ্রহন করার সময় করনীয় বিষয়:
১। স্নান করতে হবে।
২। খালিপেটে থাকতে হবে।
৩। ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে।


0 মন্তব্যসমূহ