মন্ত্র শিক্ষার্থীর প্রাথমিক উপদেশ - প্রথম শিক্ষার্থীরা যে মন্ত্রগুলি অভ্যাস করবেন, কেবলমাত্র সেইগুলিই একটি সাদা কাগজে বড় বড় অক্ষরে স্পষ্ট ভাবে লাল কালিতে লিখে নেবেন। অবশ্য একসঙ্গে বেশী মন্ত্র না লিখে খুব অল্পসংখ্যক অর্থাৎ মাত্র ৩/৪ টি মন্ত্র লিখে নিলেই অভ্যাস করার সুবিধা হয়।
মন্ত্র সিদ্ধ করার কিছু নিয়মাবলী :--------------------------------------------------------------
যে কোন অমাবস্যা তিথিতে আরম্ভ করে অপর অমাবস্যা পর্যন্ত পূর্ণ একমাস নিয়মিত রূপে প্রতিদিন সন্ধ্যাকালে অথবা নিজ অবসর সময় মত শুদ্ধাচারে আসনে বসে যথাসম্ভব একাগ্রচিত্তে উহা আবৃত্তি করবেন।
ভােজনকালে, বিছানায় শুয়ে, অপবিত্রভাবে, চিন্তা ব্যাকুলচিত্তে, অপরের সহিত কথা বলিতে বলিতে এবং ক্ষুব্ধ বা ক্ষুধার্ত হয়ে মন্ত্র উচ্চারণ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কারণ, শুদ্ধভাবে সংযত চিত্তে মন্ত্র জপ করলেই জপের ফল লাভ হয়।
আসল কথা হল সজাগ অবস্থায় অধিকবার পুনঃ পুনঃ চিন্তন পাঠ করে মুখস্ত করবেন এবং আবৃত্তি করার সময় উক্ত মন্ত্রগুলি অতীব শক্তিশালী ও অব্যর্থ ফলদায়ক বলে বিশ্বাস করবেন। কারণ কোন একটি ধারণা হৃদয়ে বদ্ধমূল না হলে উহার প্রতি কখনই স্থির বিশ্বাস জন্মিতে পারে না।
এই একমাসের মধ্যে এমন ভাবে মুখস্থ হওয়া চাই, যাহাতে চিকিৎসা করার সময় প্রয়ােজনীয় মন্ত্রগুলি বিনা বাধায় একনিশ্বাসে বলা চলে। এইসঙ্গে বিশেষভাবে বর্ধিত করতে হইবে আত্মবিশ্বাস, সংকল্পের দৃঢ়তা ও একাগ্রতা, এর ফলে মন্ত্র শক্তিও তীব্রতরভাবে কার্যকরী হইবে।
অবশ্য শিক্ষাকালীন এইসব বিদ্যা গােপন রাখাই বিধি। গৃহস্থ যেমন স্বর্ণালঙ্কার বা মহামূল্য রত্নাদি অতি গােপনে বাক্সের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন, তেমন মন্ত্রও নিজ, হৃদয়াভ্যন্তরে লুকিয়ে রাখিলে অধিক শক্তিশালি হয়ে অব্যর্থ ফলদানে সক্ষম হয়। কারণ, মন্ত্রের কোন অংশ নিয়ে অপরের সঙ্গে তর্ক সমালােচনা করলে নিজ মন দুৰ্বল ও সন্দেহপূর্ণ হয়ে মন্ত্রের শক্তি হ্রার্স পায়। এইজন্য মন্ত্রের অপর নাম গুপ্তবাদ বা গুপ্ত বিদ্যা ।
সর্বদা মনে রাখবেন মন্ত্র যত বেশি চর্চা করবেন মন্ত্র ততো বেশি জীবিত হয়ে উঠবে বা মন্ত্রের শাক্তি বৃদ্ধি পাবে। এবং যত কম চর্চা করবেন মন্ত্র ততো বেশি মৃত হয়ে উঠবে তাই আমাদের সর্বদা উচিত মন্ত্র কে জীবিত রাখা।
মন্ত্র জপের নিয়ম :--------------------------------------------------------------
মন্ত্র জপ করার জন্য বিভিন্ন মালা রয়েছে সেই মালা দিয়ে মন্ত্র জপ করতে হয় - যেমন রুদ্রাক্ষ মালা, নরমুন্ড মালা, তুলসী মালা, পদ্ম বীজের মালা, হলদি মালা, মতির মালা, স্ফটিক মালা, মানুষের মাথার খুলি ইত্যাদি । তো আমরা বিশেষত মন্ত্র জপ করার জন্য রুদ্রাক্ষ মালা ব্যাবহার করব।

0 মন্তব্যসমূহ