নিম হল বহু উপকারী বিশিষ্ট একটি ঔষধি গাছ। যার ডাল, পাতা, রস সবই কাজে লাগে। ভারতীয় উপ মহাদেশে ঔষধি গাছ হিসেবে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে গত ৫ হাজার বছর ধরে। নিম ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসেবে খুবই কার্যকরী। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। নিমের বৈজ্ঞানিক নাম: AZADIRACHTA INDICA এবং ইংরেজি নাম: NEEM.
নিম পাতার উপকারিতা:-
অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে সেক্ষেত্রে তিরিশ টি নিম পাতার রস সামান্য গরম জলে মিশিয়ে দিনে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে এবং গর্ভবতী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই ঔষধ সেবন করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেট বড় হয়। চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুঁড়ো দিনে ৩ বার সামান্য গরম জলসহ খেতে হবে।
নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক পরে মাথা ধুয়ে ফেললে ২/৩ দিনের মধ্যে সমস্ত উকুন মরে যাবে।
অনেকদিন ধরে পেটের অসুখ, পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোঁটা নিম পাতার রস অর্ধেক কাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে সকাল-বিকাল খাওয়ালে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
নিম পাতা সিদ্ধ করা জল দিয়ে স্নান করলে খোস পাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েক দিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।
পোকা মাকড় কামড়ালে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথার উপশম ঘটে।
নিমের পাতা ও ছালের গুঁড়ো কিংম্বা নিমের ছাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত মজবুত হয়।
প্রতিদিন কিছুটা পরিমাণ নিমের তেল নিয়ে মাথার ত্বক ও চুলে হালকা করে ঘষে ঘষে লাগিয়ে কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিন। এরপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং খুশকিও দূর হয়ে যাবে এবং চুলের গোড়াও শক্তিশালী হয়ে উঠবে ।
২-৩ ফোঁটা নিমের তেল জলের মধ্যে মিশিয়ে কালো আঁচিলে নিয়মিতভাবে লাগালে তা চিরতরে দূর হয়ে যায় এবং আর কখনো ফিরে আসে না।
কিছু নিম পাতা গুঁড়ো করে পেস্ট বানিয়ে ব্রণে লাগিয়ে দিন। যতদিন না ব্রণ শুকোচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এভাবেই লাগিয়ে যান। মুখের যেকোনো ধরনের ফুসকুড়ি, ডার্ক স্পট এবং দীর্ঘমেয়াদি ঘা দূর করে থাকে এই নিম।
কিছু নিম পাতা সেদ্ধ করার পর জল ছেঁকে পুরোপুরি ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর সেই জল দিয়ে চোখ ধুয়ে নিন। এতে চোখের যে কোনো ধরনের প্রদাহ, ক্লান্তি বা লালচে ভাব দূর হবে।
পরিমাণ মতো জল ও নিম পাতা নিয়ে সেদ্ধ করুন। যতক্ষণ না জল নীল হচ্ছে। এরপর তা ঠাণ্ডা করে রাখুন। স্নানের সময় চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধোয়ার পর এই জল দিয়ে মাথা পরিষ্কার করুন।
নিম পাতা বেটে পেস্ট বানিয়ে আঘাত জনিত ক্ষত বা কীট পতঙ্গের কামড়ে সৃষ্ট ক্ষততে প্রতিদিন কয়েকবার করে লাগালে তা দ্রুত সেরে যায়।
নিম তেল একটি শক্তিশালী শুক্রাণু নাশক হিসেবে কাজ করে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, নিম তেল মহিলাদের জন্য নতুন ধরনের কার্যকরী গর্ভ নিরোধক হতে পারে। এটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শুক্রানু মেরে ফেলতে সক্ষম।
ব্লাড সুগারে রোজ সকালে খালি পেটে ১৫ থেকে ২০ টি নিম পাতা চিবিয়ে খেলে উপকার হয়। চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হলে একই নিয়মে ৫ থেকে ৬ চামচ নিমপাতার রস খেলে একই উপকার হয়।
ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দ্বারা সৃষ্ট এলার্জি নিষ্কাশন করতে ব্যবহৃত করা হয়। নিমের কিছু পাতা রাতে জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং পরদিন সকালে সেগুলি বেটে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন এবং চুলকানি হওয়া জায়গায় তা ব্যবহার করুন।
আপনাদের জন্য আমাদের এই প্রয়াস। যদি এই পোষ্ট টি আপনার ভাল লাগে তাহলে আমাদের YT চ্যানেলটিকে SUBSCRIBE করবেন আমাদের FB পেজটিকে LIKE করবেন এবং এই পোষ্ট টি শেয়ার করতে ভুলবেন না ? ধন্যবাদ।

0 মন্তব্যসমূহ