বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের একটি পরিচিত গাছ হচ্ছে আকন্দ। সাধারণত রাস্তার ধারে বা ঝোপের পাশে এই গাছ দেখা যায়। গাছের পাতা, শাখা ভাঙলে দুধের মত সাদা আঠা বের হয়। সাদা বা বেগুনি বর্ণের ফুল হয়। এই উদ্ভিদটির রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ। আকন্দ গাছের ইংরেজি নাম হল Crown Flower এবং বৈজ্ঞানিক নাম হল Calotropis Gigantea
আকন্দ চুলের রোগ, ব্যাথা এবং বিষনাশে বিশেষ কার্যকরী। দাদ ও টাকপড়া নিবারক। আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে লাগালে দাঁত ব্যথা দূর করে এবং যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত ঘটায়। আকন্দ বাদ বেদনা নিবারক ও ফোলা অপসারক।
আকন্দের উপকারিতা :-
শ্বাস কষ্টে আকন্দের শিকড়ের ছাল প্রথমে গুড়া করে আকন্দের আঠায় ভিজিয়ে রেখে পরে শুকিয়ে নিতে হবে। এর পর তা চুরুট বানিয়ে ধুমপান করলে শ্বাস কষ্ট ভাল হয়।
নিউমোনিয়াজনিত কারণে আকন্দ পাতার সোজা দিকে ঘি মাখিয়ে ব্যথার জায়গায় বসিয়ে লবনের পুটলি দিয়ে স্যাঁক দিলে উপকার পাওয়া যায়।
ফোলা রোগে আকন্দ বিশেষ উপকারী। ফোলাজনিত কারণে কোনো স্থান ফুলে উঠলে আকন্দ পাতা বেঁধে রাখলে উপকার পাওয়া যায়।
দাঁতের ব্যাথায় আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে দাঁতে লাগালে দাঁত ব্যথা দূর হয়ে থাকে।
গর্ভপাতে - আকন্দের কষ তুলায় ভিজিয়ে যোনিতে ধারণ করলে গর্ভপাত হয়ে থাকে।
খোস-পাচড়া বা একজিমার ক্ষেত্রে আকন্দের আঠার সঙ্গে চার গুণ সরিষার তেল মিশিয়ে গরম করে এই গরম তেলের সঙ্গে কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে খোস পাচড়ায় লাগালে তা ভালো হয়ে যায়।
মচকা লাগা ব্যথায় আকন্দ পাতা দিয়ে গরম স্যাঁক দিলে ব্যথার উপশম হয়।
পেট জ্বালায় আকন্দ পাতার উপরের পিটে সরিষার তেল মাখিয়ে পাতাটি অল্প গরম করে পেটের উপর রাখলে বা স্যাঁক দিলে পেট কামড়ানো বা পেট জ্বালা বন্ধ হয়।
এসিডিটি দেখা দিলে ০.৬৫ গ্রাম পরিমাণ আকন্দ পোড়া ছাই পানিসহ পান করলে সঙ্গে সঙ্গে উপকার পাওয়া যায়।
হজম শক্তিতে দুই গ্রাম পরিমাণ শুকনো আকন্দ মুল গুড়া করে খেলে ক্ষুধা এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
ফোড়া বা ব্রন ফাটাতে আকন্দ পাতা বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। আকন্দ পাতা দিয়ে ফোড়া বা ব্রণ এর উপর চেপে বেঁধে রাখলে ফোড়া বা ব্রন ফেটে যায়। বিষনাশে আকন্দ বিশেষ কার্যকরী।
বিছে কামড়ালে জ্বালা-পোড়া কমাতে আকন্দ পাতা ব্যবহার করলে উপশম হয়।
শরীরের ক্ষত স্থানে আকন্দ পাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে ক্ষত স্থান ধুয়ে দিলে ক্ষত স্থানে আর পুঁজ হবে না।
আকন্দ গাছটির বিষাক্ত অংশ হলো পাতা ও গাছের কষ। গাছের পাতা ও কষ গর্ভবতী মায়েদের জন্য, শিশু এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক ও বড়দের জন্যও ক্ষতিকর। সুতরাং ব্যবহারের ক্ষেত্রে অব্যশই বিশেভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
আপনাদের জন্য আমাদের এই প্রয়াস। যদি এই পোষ্ট টি আপনার ভাল লাগে তাহলে আমাদের YT চ্যানেলটিকে SUBSCRIBE করবেন আমাদের FB পেজটিকে LIKE করবেন এবং এই পোষ্ট টি শেয়ার করতে ভুলবেন না ? ধন্যবাদ।

0 মন্তব্যসমূহ