Ad Code

Ticker

6/recent/ticker-posts

রুদ্রাক্ষ শোধন ও ধারণের বৈদিক ও তান্ত্রিক নিয়ম

রুদ্রাক্ষ শোধন ধারণের সঠিক নিয়ম

রুদ্রাক্ষকে পবিত্র কার্যকরী করার জন্য এটি শোধন করা এবং নিয়মিত পূজা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রুদ্রাক্ষ শোধনের বৈদিক নিয়মে ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:

. প্রয়োজনীয় উপকরণ:

·        একটি নতুন, অব্যবহৃত পাত্র (কাঁচ, পিতল, তামা বা মাটি)

·        গঙ্গা জল বা অন্য কোনো পবিত্র নদীর জল।

·        পঞ্চগব্য (গোমূত্র, গোময়, দুগ্ধ, দধি ঘৃতের মিশ্রণ) যদি পঞ্চগব্য না পাওয়া যায়, তবে পঞ্চামৃত (দুধ, দই, ঘি, মধু চিনি বা গুড়) ব্যবহার করা যেতে পারে।

·        চন্দন বা সিঁদুর।

·        অক্ষত (অখণ্ড চাল)

·        ধূপ প্রদীপ।

·        ফুল (বিশেষ করে অপরাজিতা বা আকন্দ ফুল)

·        নতুন পবিত্র বস্ত্র (লাল বা হলুদ রঙের কাপড় বেশি উপযোগী)

. শোধন প্রক্রিয়া:

1.     শুদ্ধি: প্রথমে রুদ্রাক্ষকে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পবিত্র পাত্রে রেখে তাতে গঙ্গা জল বা পবিত্র জল ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন যেন রুদ্রাক্ষ সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। এই অবস্থায় থেকে দিন পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখতে পারেন।

2.     পঞ্চগব্য স্নান: এরপর রুদ্রাক্ষকে পাত্র থেকে তুলে পঞ্চগব্য বা পঞ্চামৃত দিয়ে স্নান করান। এই সময়ে মনে মনে 'ওঁ নমঃ শিবায়' মন্ত্রটি জপ করতে থাকুন।

3.     চন্দন অক্ষত লেপন: পঞ্চগব্য স্নানের পর রুদ্রাক্ষকে জল দিয়ে ধুয়ে নিন। তারপর তাতে চন্দন বা সিঁদুর এবং অল্প অক্ষত লাগান।

4.     ধূপ-দ্বী প্রদর্শন: একটি ধূপ জ্বালিয়ে তার ধোঁয়া রুদ্রাক্ষের চারদিকে দেখান। এরপর প্রদীপের আলোতেও একইভাবে দেখান।

5.     জপ: রুদ্রাক্ষকে একটি পরিষ্কার নতুন কাপড়ের ওপর স্থাপন করুন। এবার আপনার ইষ্টদেবতা বা শিবের কোনো মন্ত্র জপ করুন। রুদ্রাক্ষের ওপর মন্ত্রশক্তি সঞ্চারিত হবে। নিচের যেকোনো একটি মন্ত্র জপ করতে পারেন:

o   ওম নমঃ শিবায় (সাধারণ মন্ত্র)

o   মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র

o   আপনার রাশির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিশেষ মন্ত্র

6.     ধারণের আগে পূজা: ধারণ করার দিন সকালে স্নান করার পর রুদ্রাক্ষটি শিবের বা আপনার ইষ্টদেবতার চরণে অর্পণ করুন। ফুল ফল নিবেদন করুন। কিছু সময় পর্যন্ত রুদ্রাক্ষ চরণে রেখে মনের ইচ্ছা বলুন।

7.     রুদ্রাক্ষ ধারণ: অবশেষে, রুদ্রাক্ষটিকে ভক্তিভরে প্রণাম করে মন্ত্রোচ্চারণ পূর্বক পরিধান করুন। সাধারণত সোমবার বা শিবরাত্রি বা কোনো উৎসবের দিনে রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত।

কিছু জরুরি নিয়ম:

·        রুদ্রাক্ষ ধারণ করার আগে অবশ্যই স্নান করুন।

·        অশুচি অবস্থায় যেমন শ্মশানে বা কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে রুদ্রাক্ষ ধারণ করবেন না।

·        রুদ্রাক্ষটি সর্বদা শুদ্ধ রাখুন। নিয়মিত গঙ্গাজল বা পবিত্র জল দিয়ে স্নান করান।

·        রাতে ঘুমানোর সময় রুদ্রাক্ষটি খুলে একটি পরিষ্কার স্থানে বা মন্দিরে রাখুন।

·        রুদ্রাক্ষ কোনো ধাতব বস্তু (যেমন তামা, সোনা, রূপা) দিয়ে বাঁধানো যেতে পারে।

·        আপনি চাইলে আপনার রাশির বা জন্মদিনের সঙ্গে মিল রেখে রুদ্রাক্ষ বেছে নিতে পারেন।

বি.দ্র.: রুদ্রাক্ষ ধারণ করার নিয়ম বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ বা সাধু-মহাত্মাদের মতে ভিন্ন হতে পারে। আপনি কোনো জ্ঞানীবান ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করে আপনার জন্য সঠিক নিয়মটি নির্বাচন করতে পারেন।

রুদ্রাক্ষকে পবিত্র  কার্যকরী করার জন্য এটি শোধন এবং গুনগত মান দীর্ঘমেয়াদি করে রাখতে  Condition করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে রুদ্রাক্ষ শোধনের তান্ত্রিক নিয়ম ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:

প্রয়োজনীয় উপকরণ:

·        গরুর দুধ থেকে তৈরি  ঘৃত বা ঘি

·        গরুর কাঁচা দুধ

·        বেলপাতা

·        নিমপাতা

শোধন প্রক্রিয়া:

১। প্রথমে রুদ্রাক্ষকে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পবিত্র পাত্রে রেখে তাতে ঘি ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন যেন রুদ্রাক্ষ সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। এই অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন।

২। ২৪ ঘণ্টা সময় অতিক্রম হলে রুদ্রাক্ষ পাত্র থেকে তুলে নিন তারপর রুদ্রাক্ষকে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পবিত্র পাত্রে রুদ্রাক্ষ রেখে তাতে গরুর কাঁচা দুধ ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন যেন রুদ্রাক্ষ সম্পূর্ণ ডুবে থাকে। এই অবস্থায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখুন।

৩। ২৪ ঘণ্টা সময় অতিক্রম হলে রুদ্রাক্ষ পাত্র থেকে তুলে নিন এবং পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন তারপর পরিস্কার কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন।

৪। ভগবান শিবের সামনে অথবা ইষ্টদেবদেবীর সামনে একটি তামার অথবা পাথরের পাত্র রাখুন পাত্রের মধ্যে কিছু নিমপাতা ও বেলপাতা রাখুন তার উপর রুদ্রাক্ষ দিন এখন নিমপাতা ও বেলপাতা দিয়ে রুদ্রাক্ষ সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে দিন এবং ধূপ দ্বীপ জ্বালিয়ে একটি আসনে উপবেশন পূর্বক ওম নমঃ শিবায় মন্ত্র অথবা যে কোন মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ১১ বার ২১ বার অথবা ১০৮ বার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ভক্তি সহকারে জপ করুন। ভগবানের চরনে নিবেদিত রুদ্রাক্ষ ২৪ ঘণ্টা সময় পর্যন্ত রাখুন।

৫। এই পক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে রুদ্রাক্ষ ধারন করার জন্য প্রস্তুত। এখন আপনি লাল অথবা কালো সুতো দিয়ে রুদ্রাক্ষ গলায় ধারন করুন।

৬। রুদ্রাক্ষের গুনগত মান বজায় রাখতে প্রতি ছয় মাসে একবার শোধন এবং Condition করা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ।

বি.দ্র.: রুদ্রাক্ষ শোধনের তান্ত্রিক নিয়ম দেওয়া হলো। তন্ত্রে রুদ্রাক্ষকে আরও শক্তিশালী করার এক বিশেষ নিয়ম রয়েছে যা অত্যন্ত গোপন বা গুপ্ত। তন্ত্রে রুদ্রাক্ষ ধারন করার এক বিশেষ সুতো তৈরি করার নিয়ম রয়েছে যাকে অভয় সুত্র বলা হয়। এই অভয় সুত্র দিয়ে রুদ্রাক্ষ ধারন করলে বিশেষ উপকারিতা বা লাভ পাওয়া যায় এবং এই অভয় সুত্র রক্ষা সুত্র হিসেবেও কাজ করে।

উপরে যে বৈদিক এবং তান্ত্রিক নিয়ম উপস্থাপন করা হয়েছে এই নিয়ম সর্ব-সাধারন এবং গৃহস্থ মানুষদের জন্য।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Ad Code